তারেক রহমান এর আত্মকাহিনী

দ্বিতীয়বারের মতো রোববার, মার্চ ৬, ২০১৬ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলবিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তারেক রহমান। শনিবার, মার্চ ১৯, ২০১৬ দলের ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে সারা দেশ থেকে আগত ৩০০০ কাউন্সিলর এর অনুমোদন দেন।  তিনি আগামী তিন বছর, ২০১৯ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন।
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৮, ২০০৯ ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি প্রথমবারের মতো সংগঠনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
২০০২ সালে তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান।
তিনি ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ শুরু করেন।
জন্ম
তারেক রহমান প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম সন্তান। তাঁর ডাক নাম পিনো।   ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর তিনি বগুড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন।
শিক্ষা জীবন
তারেক বাংলাদেশের সেরা দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ হতে মাধ্যমিক ও নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন পরে পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন তিনি। বর্তমানে তারেক রহমান লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশাস্ত্রে উচ্চতর পড়াশুনা করছেন।
রাজনীতি

তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে তাঁর আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটান। ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে তিনি দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে যুক্ত হন।
তারেক রহমান ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের তথ্য ও গবেষণা সেল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। সৃজনশীল পরিকল্পনায় দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালান। নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১৫টি আসন পেয়ে নির্বাচিত হয়ে ১০ অক্টোবর সরকার গঠন করে। ২০০২ সালে তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির জেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।
২০০২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তিনি বিএনপিকে সারা দেশে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য কার্যকর ও অভূতপূর্ব কর্মসূচী গ্রহণ করে  আলোড়ন তৈরি করেন। সারাদেশে সংগঠিত করেন তৃণমূল প্রতিনিধিসভা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কোন যুগান্তকারী কর্মসূচী অন্য কোন রাজনীতিবিদ করতে পারেননি। মূল সংগঠন সহ সহযোগী সংগঠন যেমন জাতীয়তাবাদী যুব দল, জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন ও মাঠপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও মতামত গ্রহণ করেন। সারাদেশে ২৩টি এলাকায় উন্নয়ন প্রতিনিধি সভা করে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে সুসংহত করেন। এসব সভায় দলের তৃণমূল নেতারা বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিলে তিনি এসব পরামর্শ সুপারিশ আকারে সরকারের বিবেচনার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দেন।
তিনি কর্মীদের ভোটে গঠন করেন বগুড়া বিএনপি কমিটি। কেন্দ্র থেকে কমিটি চাপিয়ে না দিয়ে তিনি শুরু করেন নিজ দলের ভিতর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি।
এইভাবে তারেক রহমান শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তানের পরিচিতি থেকে বেরিয়ে এসে দলের একজন দক্ষ সংগঠক ও সক্রিয় নেতা হিসেবে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন।
জেল জীবন
বুধবার, মার্চ ৭, ২০০৭ মধ্যরাতে তারেক রহমানকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় তাঁর ঢাকা ক্যান্টমেন্টস্থ মইনুল রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন অবৈধ স্বঘোষিত সরকার। বাংলাদেশেকে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব শূণ্য করতে বিদেশী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জেলে জিজ্ঞাসাবাদের নামে তারেক রহমানের উপর চালানো হয়েছিল অমানুষিক বর্বর শারিরিক ও মানুষিক নির্যাতন। তাঁর পায়ে, কোমরে এমন নির্যাতন করা হয় যে তিনি হাঁটতে পারছিলেন না।
জেল মুক্তি
সোমবার, আগস্ট ২৫, ২০০৭ খবর ছড়িয়ে পড়ে যে তারেক রহমান তার হাসপাতাল কক্ষে পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। এরপর এ খবরের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ ও ধারণা সৃষ্টি হয় যে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনকে গোপন করার লক্ষ্যে এই খবর ছড়ানো হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখা দেয়, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে চাপ বাড়তে থাকে। দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা তারেককে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান।
২০০৮ এর আগস্টে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো আদালতে গতি লাভ করে। প্রায় আঠারো মাস ব্যাপী নিপীড়িত অবস্থায় কারান্তরীণ থাকার পর বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০০৮ তারিখে সবগুলো মামলায় তারেক রহমানের জামিন সম্পন্ন হয় ও তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তি লাভ করেন।
লন্ডনে বসবাস
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০০৮ তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বর্তমানে লন্ডনের সাউথ ওয়েলিংটন হসপিটাল ও লন্ডন হসপিটালে তার চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসার সুবিধার্থে তিনি সেন্ট্রাল লন্ডনের এডমন্টনে স্বপরিবারে বসবাস করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন
তারেক রহমান সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খানের কনিষ্ঠা কন্যা ডাঃ জোবায়দা রহমানকে বিয়ে করেন। জোবায়দা
লন্ডনের ইমপেরিয়াল কলেজ থেকে চার বছরের মাস্টার্স অব কার্ডিওলজি কোর্স সম্পূর্ণ করেন। তিনি ডিস্টিংশনসহ শতকরা ৮৩ ভাগ নাম্বার পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এই কোর্সে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইউই), কমনওয়েলথভুক্ত দেশ নাইজেরিয়া এবং চীনসহ মোট ৫৫টি দেশের ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ডা. জোবায়দা রহমান সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে প্রথম হয়েছেন।
তাঁদের একমাত্র সন্তান জাইমা রহমান লন্ডনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ছেন।



শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট