হৃদরোগে আক্রান্ত শফিউল আলম প্রধান হাসপাতালে

হৃদরোগে আক্রান্ত শফিউল আলম প্রধান হাসপাতালে
শফিউল আলম প্রধান অসুস্থ


হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০ দলীয় জোটের নেতা ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। সোমবার রাতে তিনি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে দ্রুত তাকে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে অধ্যাপক ডা. নাজিউর রহমানের তত্ত্বাবধানে আছেন। শফিউল আলম প্রধানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তার সহধর্মিনী রেহেনা প্রধান ও জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান।

নিজ বাসায় এমপি লিটন কে গুলি করে হত্যা

নিজ বাসায় এমপি লিটন কে গুলি করে হত্যা
গুলি বিদ্ধ এমপি লিটন মারা গেছেন


গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সন্ধ্যায় এমপি’র নিজ বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায় তাকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রমেক হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর বরকতউল্লাহ জানান, হাসপাতালে আসার আগেই এমপি লিটনের মৃত্যু হয়েছে। এমপি লিটনের সঙ্গে থাকা ধোবাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সুজাও তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
এলাকবাসী সূত্রে জানা যায়, আজ সন্ধ্যার আগে এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায় তার বাড়িতে বসেছিলেন। তখন বাড়ির পুর্ব দিকের রাস্তা দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি এমপির সঙ্গে দেখা করতে চায়। এসময় লিটনের কোল্ড ষ্টোরেজের ম্যানেজার অনিল সাহা তাদের কাছে সাক্ষাতের কারন জানতে চান। ম্যানেজার অনিল এমপির ঘরে ঢুকতেই ওই দুর্বৃত্ত ঘরের দিকে এগিয়ে গিয়ে শরীরে লুকানো পিস্তল দিয়ে পরপর এমপি’র বুকে গুলি করেন। অপর এক দুর্বৃত্ত মটর সাইকেল স্টার্ট দিয়ে দাঁড়িয়েছিল। গুলি করে তিন দুর্বৃত্ত দ্রুত দক্ষিণের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় তার স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি পাশের বাড়িতে ছিলেন। ঘটনার পর ম্যানেজার অনিল সাহার চিৎকারে তার স্ত্রীসহ ড্রাইভার ও লোকজন এসে ঘরের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লিটনকে পড়ে থাকতে দেখেন। নিজের গাড়িতে করে লিটনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়। তল্লাশী করা হচ্ছে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন প্রবেশ পথ ও সুন্দরগঞ্জের বিশেষ কিছু জায়গায়।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান জানান, এই মুহুর্তে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা বলা মুশকিল। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এখন আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারা ও কোন ঘটনার সূত্র ধরে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানতে চেষ্টা করছে পুলিশ।
২০১৫ সালের ২ অক্টোবর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্ধ ইউনিয়নের গোপালচরণ এলাকায় এক শিশুকে গুলি করে সারা দেশে সমালোচনার মুখে পড়েন এমপি লিটন। তিনি লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে গোপালচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সৌরভকে গুলি করেন। এ ঘটনায় সৌরভের বাবা বাদী হয়ে ৩ অক্টোবর এমপি লিটনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এ ছাড়া এমপি লিটনের বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ৬ অক্টোবর আরেকটি মামলা করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর শাহাবাজ গ্রামের হাফিজার রহমান। এর পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন এমপি লিটন। ওই বছরই আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান। পরে জামিনে মুক্তি পান।

খৃষ্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাণী

খৃষ্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাণী


ডিসিএফ রিপোর্টঃ
বাণী-খৃষ্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে আমি দেশবাসী এবং বিশ্ববাসী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। কামনা করি সকলের অব্যাহত সুখ, স্বাচ্ছন্দ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। শুভ নববর্ষ।
১লা জানুয়ারীপ্রতিবছর নতুন বার্তা নিয়ে আমাদের দ্বারে উপস্থিত হয়। পুরনো বছরের ব্যর্থতা, তিক্ততা, গ্লানী ও হতাশাকে ঝেড়ে ফেলে নবউদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায় নববর্ষ। পাশাপাশি অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণে তৎপর হতে হবে বছরের প্রথম দিন থেকেই।
গেল বছরটি এখন আমাদের মনে স্মৃতি হয়ে থাকবে। গত বৎসরের বেশকিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা, স্বজন হারানোর বেদনা এবং অধিকার হারানোর যন্ত্রণা আগামী বৎসরে আমাদের একদিকে যমন বেদনার্ত করবে আবার অন্যদিকে নুতন উদ্যোমে এগিয়ে যেতে তাগিদ সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশে দুরভিসন্ধিমূলক পরিকল্পনায় গণতন্ত্রকে বিপন্ন করা হয়েছে। বৈচিত্রের মধ্যে অন্তর্নিহিত ঐক্য গণতন্ত্রের সারাৎসার, কিন্তু বাংলাদেশে চিরন্তন গণতন্ত্রের বহুত্ত্ববাদী বৈচিত্রকে অবসন্ন করে মহলবিশেষ ক্রমাগতভাবে রাষ্ট্রের একচ্ছত্র একমাত্রিক চরিত্র দান করতে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছিয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বময় সংঘাত আর অশান্তির ঘটনা প্রবাহে নতুন বছরটিকে গণতন্ত্র, শান্তি ও অগ্রগতির বছরে পরিণত করতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে অজস্র রক্তঋণে অর্জিত গণতন্ত্র অপহৃত হয়েছে। গণবিরোধী শক্তি জনগণের সকল অধিকারকে বন্দী করে রেখেছে। এমতাবস্থায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তির মিলিত সংগ্রামে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পূণ:রুদ্ধার করতে হবে।

নতুন বছরটি সবার জীবনে বয়ে আনুক বিজয়, অনাবিল সুখ ও শান্তি, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে প্রবাহিত হোক শান্তির অমিয় ধারা, দূর হয়ে যাক সব অন্যায়-উৎপীড়ণ, নির্যাতন। বন্ধ হউক হত্যা, গুম, খুন, যুদ্ধ বিগ্রহ ও অমানবিকতাসহ সকল ধরণের দমনমুলক নৃশংসতা-নববর্ষের শুরতে আমি এই কামনা করছি। হৃত গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানাই।
আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

 (এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী)
যুগ্ম মহাসচিব (দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত)

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

ইংরেজি নববর্ষে বিএনপি মহাসচিবের শুভেচ্ছা বাণী

ইংরেজি নববর্ষে বিএনপি মহাসচিবের শুভেচ্ছা বাণী
 ডিসিএফ রিপোর্টঃ খ্রিস্টীয় নববর্ষ উপলক্ষ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকলকে নতুন বছরে হৃত গণতন্ত্রকে উদ্ধার করার সংগ্রামে ব্রতী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।  
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর’র বাণীটি নিচে দেয়া হলো –
“খ্রিস্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে আমি দেশবাসী ও বিশ্ববাসী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তাদের সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি।
কালের আবর্তে আরো একটি বছর পেরিয়ে গেল। নানা ঘটনা দূর্ঘটনার কালের সাক্ষী হয়ে বছরটি বিদায় নিলো। গত বছরের সকল ব্যর্থতা ও হতাশার গ্লানি ঝেড়ে ফেলে এবং সাফল্যকে সঞ্চয় করে আগামী পথ চলার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে। হৃত গণতন্ত্রকে উদ্ধার করার সংগ্রামে সকলকে ব্রতী হতে হবে। আমাদের কর্মে নতুন বছরটি যাতে সাফল্য এবং সমৃদ্ধির বছরে পরিণত হয় সে লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।
নতুন বছরটি হয়ে উঠুক আনন্দময়, আমি এ কামনা করি।
আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”

BNBBANGLADESH.COM থেকে সংগৃহীত 

আ’লীগ সরকারের ৮ বছরে বিএসএফ এ বছর সবচেয়ে বেশি খুন করেছে

আ’লীগ সরকারের ৮ বছরে বিএসএফ এ বছর সবচেয়ে বেশি খুন করেছে
এ বছর সীমান্ত হত্যা


ডিসিএফ রিপোর্টারঃমোদী ও মমতার আশ্বাস, বিজিবি-বিএসএফের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক এবং স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে কোনো কিছুতেই থামছে না বিএসএফের বুলেট। ক্রমশই তাদের বুলেট ধেয়ে আসছে সীমান্তের নিরীহ মানুষের দিকে। আস্তে আস্তে প্রাণঘাতী হচ্ছেন তারা। সীমান্ত হত্যা শূন্যে আনার অঙ্গীকার করেও তা প্রতিনিয়ত ভঙ্গ করছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বিগত বছরের চেয়ে চলতি বছরে আরো বেশি প্রাণঘাতী হয়েছে তারা। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা আর দেশি-বিদেশি চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশি নিরীহ মানুষের উপর চালিয়ে যাচ্ছে হত্যাযজ্ঞ। কাউকে করা হচ্ছে গুলি, কাউকে নিয়ে যাচ্ছে তুলে। কারও লাশ মিলছে ডোবায়, কারও কাঁটাতারে। কেউ আবার বেঁচে থাকছেন পঙ্গুত্ব নিয়ে। সর্বশেষ গতকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা থেকে এক গরু ব্যবসায়ীকে  বিএসএফ ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধরে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি হলো উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের মাসুদপুর ঠুটাপাড়া বড়গীপাড়া গ্রামের আনারুল হক টুকুর ছেলে তোতা (২২)। আনারুল হক টুকু  জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মাসুদপুর বিওপির অধীনস্থ সীমান্ত পিলার নং ১/৫ এস এলাকায় বাংলাদেশের ২০০ গজ অভ্যন্তরে গমের জমি থেকে আমার ছেলে গরু ব্যবসায়ী তোতাকে ভারতের নিমতিতা (টেন্ট) ক্যাম্পের বিএসএফরা ধরে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আমি মাসুদপুর ক্যাম্পের নিকট মৌখিক অভিযোগ করেছি। মাসুদপুর বিওপির কমান্ডার উমর আলি জানান তার মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা বিএসএফের সাথে কথা বলেছি। তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর আগে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত আসাদুজ্জামানের (২২) লাশ দুই দিন পর ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীÑবিএসএফ। গত ১৩ ডিসেম্বর দুপুরে দুর্গাপুর সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উপস্থিতিতে আদিতমারী থানা পুলিশের কাছে মরদেহ ফেরত দেয় বিএসএফ। : মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, গত চার বছরের তুলনায় চলতি বছর সীমান্ত হত্যা অনেকটা বেড়ে গেছে। এ বছর ভারতীয় সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৫ জন বাংলাদেশি। একই সংস্থার হিসাবে যা ২০১৪ সালের চেয়ে ১২ জন বেশি। ওই বছর এই সংখ্যাটা ছিল ৩৩। আরেক মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর হিসাবে, ২০১৩ সালে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতের সংখ্যা ছিল ২৯ জন। ২০১২ সালে ৩৮ জন আর ২০১১ সালে ৩১ জন। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৪ জন, আর ২০০৯ সালে ৯৬ জন। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের আট বছরে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ৩৪৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়। অর্থাৎ এই সরকারের আমলে প্রতি বছর গড়ে ৪৪ জন করে নিহত হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুই বছরে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় মোট ১৮২ জন। এর মধ্যে ২০০৮ সালে ৬২ জন এবং ২০০৭ সালে ১২০ জন নিহত হয়। : এদিকে বিজিবি এক পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সীমান্ত হত্যা এ বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেড়েছিল। তবে এই মাস থেকে তা কমে এসেছে।  ওই কর্মকর্তা বলেন, সেপ্টেম্বরে বিজিবি-বিএসএফ ডিজি পর্যায়ের বৈঠক এবং স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পর হত্যা কমতে শুরু করেছ। বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। এরই মধ্যে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে। সামনে  আরও কমবে।  তবে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, সীমান্ত হত্যা বেশি বা কম সেটা আমার কাছে গুরুত্বপ্র্ণূ নয়। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এটা বন্ধ হয়নি, চলমান রয়েছে। এটাকে শূন্যে নিয়ে আসার বিষয়টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে। নুর খান বলেন, সবসময়ই সীমান্তে হত্যার বিষয়টি নিয়ে অবহেলা করা হয়। বিএসএফ সদস্যদের বিচারহীনতার কারণেই এটা ঘটে চলেছে। অনেক সময়ই তারা সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করছে না। : এক প্রশ্নের জবাবে নূর খান বলেন, ‘ইমপিউনিটির সুযোগ যেন বিএসএফ না নিতে পারে সেই ব্যবস্থা করা দরকার। এছাড়া সীমান্তে যৌথ মহড়া থাকা উচিত। চোরাচালান বন্ধে দেশের অভ্যন্তরেই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কোনো অবস্থাতেই নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করা যাবে না, সেই নিশ্চয়তার ব্যবস্থা করা। সর্বোপরি আমাদের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মর্যাদাকর অবস্থান নেয়া দরকার বলেও মনে করেন নূর খান। : জানতে চাইলে সাবেক কূটনীতিক মোহাম্মদ জামির জানান, সীমান্ত হত্যা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আমাদের সীমান্ত দিয়ে ভারতে কেউ প্রবেশ করলে তাদের তো গুলি করা হয় না। কিন্তু ভারতের সীমান্তে কেউ প্রবেশ করলেই গুলি করা হয়। এটা ঠিক নয়। বরং যে ব্যক্তি প্রবেশ করে তাকে আইনের আওতায় নিতে পারে বিএসএফ। সেটা না করে হত্যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। গত ২০ ডিসেম্বর পিলখানায় বিজিবি দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা আমাদের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজিবির প্রচেষ্টায় বিএসএফের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের ফলে সীমান্তে নিহতের ঘটনা কমে এসেছে। : দায় আছে বিজিবিরও : বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে বাংলাদেশিদের ওপর বিএসএফের গুলি বরাবরই এক আলোচিত ঘটনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, গরু চোরাচালান করতে গিয়ে খুন হয় বাংলাদেশিরা। কাঁটাতারের বেড়া কেটে বা বেড়া ডিঙিয়ে পার হওয়ার সময় গুলি করে বিএসএফ। : গত এক দশকে বিএসএফ এবং বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে প্রায় প্রতিটি বৈঠকেই সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এমনকি প্রাণঘাতী বুলেটের বদলে গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হলে রাবার বুলেট ছোঁড়ার কথাও একাধিকবার জানিয়েছে বিএসএফ। কিন্তু এর কোনো অঙ্গীকারই রাখা হয়নি। সীমান্ত হত্যার জন্য প্রধানত দায়ী করা হয় গরু চোরাচালানকে। ভারত সরকার গরু চোরাচালান বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও এই চোরাচালান বন্ধ হয়নি। আর বিজিবিও এই বিষয়টিকে চিহ্নিত করলেও প্রকারান্তরে বাংলাদেশ গরু চোরাচালানকে উৎসাহিত করে। : চোরাচালান করে গরু আনা হয় ক্যাটেল বিট বা খাটালে। সেখানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শুল্ক পরিশোধ করলে সে গরু বৈধতা পেয়ে যায়। বিজিবি নিজেও এই চোরাচালান বন্ধের ওপর জোর দিয়েছে নানা সময়। কিন্তু এই খাটাল বা শুল্ক নিয়ে চোরাচালান করে আনা গরু বন্ধে কোনও উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীÑবিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেন, ‘গরু এভাবে শুল্ক দিয়ে বৈধ করা উচিত না। আমিও মনে করি এটা বন্ধ হওয়া উচিত। আমরা এই চেষ্টা করবো।

গনতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করবে বিএনপি

গনতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করবে বিএনপি
৭ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপির সমাবেশ : রিজভী


ডিসিএফ রিপোর্টঃ ৫জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে ৭ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গতকাল বুধবার বেলা এগারটার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ ঘোষণা দেন। রিজভী আরো জানান, ৫ জানুয়ারি সারা দেশে গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে সারা দেশে জেলা ও মহানগরে কালো পতাকা মিছিল এবং করবে নেতাকর্মীরা। বিএনপির এই নেতা জানান, এ উপলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী ৭ জানুয়ারি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশের জন্য আমরা ইতিমধ্যে যথাযথ কর্তৃপকে চিঠি দিয়েছি এবং প্রক্রিয়া শুরু করেছি। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি কোনো নির্বাচন হয়নি। আওয়ামী লীগ একতরফাভাবে নির্বাচনের নামে ক্ষমতা দখল করেছে। এ নির্বাচনে চতুষ্পদ জন্তু ছাড়া কোনো ভোটার ছিল না। তাই এ দিনকে সবাই গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করছে। : জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট ছাড়া একতরফা জেলা পরিষদ নির্বাচন সংবিধান ও আইন বিরোধী বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, এই নির্বাচনে জনগণের সম্পৃক্ততা নেই। সংবিধানে আছে জনগণের প্রত্যাক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু এটা হচ্ছে পরোক্ষ ভোটে। সুতরাং এ নির্বাচন হচ্ছে বেআইনি। আরো একটি একতরফা নির্বাচন হতে যাচ্ছে সম্পূর্ণ অবৈধ, অসাংবিধানিক ও বেআইনি এ নির্বাচন জনগণের সাথে প্রহসন ছাড়া কিছুই না। কারণ সংবিধানে পরিষ্কার বলা হয়েছে, জনপ্রতিনিধি নির্বাচন হবে জনগণের প্রত্যাক্ষ ভোটে। এ প্রক্রিয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচন অবৈধ বলে এ ব্যাপারে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট মামলা বহাল থাকলেও জনবিচ্ছিন্ন সরকার গায়ের জোরে আইউব খান মডেলে একতরফা এ নির্বাচনটি আজ সম্পূর্র্ণ করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার নিজেদের মুক্তিযুদ্ধেও সপক্ষের শক্তি ও পাকিস্তানের বিরোধী বললেও তারা আসলে পাকিস্তানের মডেলেই দেশ চালাচ্ছে। যে গণতন্ত্রেও জন্য আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সে গণতন্ত্রকে তারা আজ হত্যা করেছে। এখন আওয়ামী লীগ হাটছে আইউব খান মডেলে। জেলা পরিষদ নির্বাচনও তারই একটি নমুনা। ৬০-এর দশকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আয়ুব খান এ মডেলে নির্বাচন করে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তিনি। তখন এই পদ্ধতির নামকরণ করা হয়েছিল বেসিক গণতন্ত্র বা মৌলিক গণতন্ত্র। : দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের হার ও বীভৎসতা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও নারী ও শিশু ধর্ষিতা হচ্ছেন, নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, এমনকি ধর্ষণ বা গণধর্ষণের পর তাদের হত্যা করা হচ্ছে। এর বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটছে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের হাতে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত এক বছরে প্রায় তিনশ জন নারী নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে পাঁচ শতাধিক। এক বছরে নারী নির্যাতন বেড়েছে ৭৪%। বেড়েছে গণধর্ষণের ঘটনা । ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনাসহ মোট পাঁচ হাজার নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার দেড় শতাধিক এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে প্রায় ৫০ জনকে। এছাড়াও শিশু অপহরণ ও হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা যাচ্ছে। শিশু অপহরণের পর অনেক েেত্রই মুক্তিপণ দাবি করা হয়। প্রায় সময়ই টাকা দিয়েও শিশু হত্যা ঠেকানো যাচ্ছে না। : তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ অবনতির ফলে খুন খারাপি বেড়ে গেছে। তারওপর নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গোটা নারী সমাজ আজ উদ্বীঘœ। ভোটারবিহীন অবৈধ সরকার নারী শিশুদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। মানুষের কোথাও আজ কোনো নিরাপত্তা নেই। পুলিশ নির্ভর অবৈধ সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে তাদেরকে বিরোধী দল দলনের জন্য ব্যবহার করায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। বর্তমান সরকার বেআইনি সরকার বলেই নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারে না। কারণ এরাই সৃষ্টি করেছে দেশে বিচার হীনতার সংস্কৃতি। সে কারণে বীভৎস্য অপকর্মে রাষ্ট্র-সমাজে প্রচন্ড আবর্ত সৃষ্টি করেছে দুষ্কৃতকারীরা। : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার, হয়রানি ও নির্যাতন চলছে। ইতিমধ্যে সাভার উপজেলার বিএনপি মনোনীত নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিনিসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন সাংবাদিককে আটক করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক এমপি ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিনসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তা বাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আটককৃত নেতা-কর্মীর মুক্তি দাবি করছি। : শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবি করছেন তা অত্যন্ত যৌক্তিক বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, বিনা ভোটের অবৈধ সরকার তাদের নিজেদের গদি টিকিয়ে রাখতে গিয়ে শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় কিছু লোকের বেতন বৃদ্ধি করায় গোটা সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর ফলে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সকল ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এছাড়াও নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, বাসা বাড়ির ভাড়া বৃদ্ধিসহ মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি, আধা সরকারি, গার্মেন্টস শ্রমিক, শ্রমজীবীসহ সাধারণ মানুষের বর্তমানে ত্রাহি অবস্থা। এক অনতিক্রান্ত শৃঙ্খলের বেড়াজালে গোটা রাষ্ট্রকে আটকে রাখা হয়েছে। মুক্তির করুণ কাকুতি আজ চারদিকে ঝংকৃত হয়ে উঠেছে। তাই বর্তমানে জোর করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় চেপে বসা স্বৈরাচারের ভয়াবহ ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে দেশের মানুষকে আজ দৃঢ় পদে অগ্রসর হতে হবে। শ্রমিকদের যৌক্তক দাবি মেনে না নিয়ে পেশী শক্তি প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান হবে না। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি পোশাক মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিন। শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করে নিরপরাধ শ্রমিকদের কাজে যোগদানের ব্যবস্থা করুন। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, জাসাসের সভাপতি আব্দুল মালেক প্রমুখ।

শহীদ জিয়ার ১৯ দফা

শহীদ জিয়ার ১৯ দফা
১। সর্বোতভাবে দেশের স্বাধীনতা, অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
২। শাসনতন্ত্রের চারটি মূলনীতি অর্থাৎ সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের সমাজতন্ত্র জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে প্রতিফলন করা।
৩। সর্ব উপায়ে নিজেদেরকে একটি আত্বনির্ভরশীল জাতি হিসেবে গড়ে তোলা।

শহীদ জিয়া ৮০ দশকের প্রথমদিকে এই দফাগুলোর কার্‍যক্রম শুরু করলেও দেখা যাবে এর ভিতরেই সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক সংকটগুলোর মিল আছে।  বর্তমান সরকার সংবিধান পরিবর্তন করে একতরফাভাবে ধর্মনিরপেক্ষতা কিংবা ভারতীয় রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নের কূটকৌশলে লিপ্ত,এই কূটকৌশল বাস্তবায়নে ইসলামকে জংগীবাদ বা সাম্প্রদায়িকের সমার্থক বানিয়ে জনগণকে ধোকা দেবার অপচেষ্টাতে ব্যস্ত রয়েছে বিভিন্ন হলুদ মিডিয়া। এই কুটকৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ইসলামী মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্য নয়, এমন অনেক অপসংস্কৃতি আমদানী করা হচ্ছে। দেশের তরুন বা ছাত্র সমাজ যেন এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না হতে পারে তার যথাযথ ঔষধ এখন তৈরীঃ ড্রাগ, অপসংস্কৃতির গান-বাজনা, আকাশ সংস্কৃতি ইত্যাদি আধুনিকতার নামে দেশীয় সংস্কৃতির কাঠামো ভেংগে দেওয়ার নীলনকশায় শশব্যস্ত বেঈমান গ্রুপ।

বিগত দিনে লগি-বৈঠার আন্দোলনের নামে  দলীয় দ্বন্দ্বের আড়ালে দেশে এক সিভিল ওয়ার লাগানোর যড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো এই বেঈমানগ্রুপ,এদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা দেশের অখন্ডতার জন্যে বিপদজনক। শহীদ জিয়ার ১৯ দফাতেও এই সকল বেঈমানের সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ থাকার উল্লেখ আছে।

ফারাক্কা বাধের পরিবেশগত কুফলের কথা বিবেচনা করে শহীদ জিয়া ভারতের সাথে আলোচনার ব্যাপারে ছিলেন অনঢ়। অথচ আজকে একের পর এক বাংলাদেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে বর্তমান সরকার ভারতের সাথে বিভিন্ন চুক্তি করছে, জনগনকে অন্ধকারে রেখেই।  বিদ্যুত, টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থার পরে গার্মেন্টস শিল্পের নিয়ন্ত্রন অন্যের হাতে তুলে দেবার লক্ষ্যে নানামুখী স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপে সরকার অগ্রসর হচ্ছে।

রাজনীতির আদর্শগত ভিত্তির কাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি জনপ্রশাসনের রুপরেখার কথাও আছে তার প্রবর্তিত ১৯ দফাতেঃ
৪। প্রশাসনের সর্বস্তরে, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং আইন-শৃংখলা রক্ষার ব্যাপারে জনসাধারনের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা।
অথচ আজ সর্বস্তরে দলীয়করন, উন্নয়ন কার্যক্রমের নামে দুর্নীতি আর পুলিশ প্রশাসনের অযোগ্যতা জনজীবনকে দূর্বিষহ করে তুলেছে।
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গ্রামীন সমাজ ব্যবস্থার উপর জোর দেবার পাশাপাশি স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে যুগোপযোগী ব্যবস্থাগ্রহনেরও কথা বলা হয়েছেঃ
৫। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীন তথা জাতীয় অর্থনীতিকে জোরদার করা।
৬। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ করা এবং কেউ যেন ভুখা না থাকে তার ব্যাবস্থা করা।
৭। দেশে কাপড়ের উৎপাদন বাড়িয়ে সকলের জন্য অন্তত মোটা কাপড় সরবরাহ নিশ্চিত করা।
৮। কোন নাগরিক গৃহহীন না থাকে তার যথাসম্ভব ব্যাবস্থা করা।
৯। দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা ।
১০। সকল দেশবাসীর জন্য নূন্যতম চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা।
নারী এবং যুব সমাজকে কিভাবে দেশের মূল-উন্নয়নের অংশীদার করা যায় তারও রুপরেখার স্বপ্ন  শহীদ জিয়ার ১৯ দফাতে আছেঃ
১১। সমাজে নারীর যথাযোগ্য মর্যাদা প্রতষ্ঠা করা এবং যুব সমাজকে সুসঙ্গহত করে জাতি গঠনে উদ্বুদ্ধ করা।
দেশের বেসরকারী খাতকে উন্নয়ন এবং শ্রমিক-মালিকদের অধিকার নিয়ে শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়িত হলে আজকে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো শক্তিশালী হতো। এখানে উল্লেখ্য, ৮০ দশকের প্রথম দিকে আজকের গার্মেন্টসের যাত্রা শুরু হয়েছিলোঃ 
১২। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারী খাতে প্রয়োজনীয় উৎসাহ দান।
১৩। শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি সাধন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে সুস্থ শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।
যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকুরীতে নিয়োগ এবং তাদের কাজে আগ্রহ  তৈরিরও পরিকল্পনার কথা পাওয়া যায়ঃ
১৪। সরকারি চাকুরীজীবিদের মধ্যে জনসেবা ও দেশ গঠনের মনোবৃত্তিতে উৎসাহিত করা এবং তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করা।
একই সাথে শহীদ জিয়ার সূদুর প্রসারী চিন্তাভাবনার দর্শনও পরিলক্ষিত হয় তার বিভিন্ন কার্‍যক্রমে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে তার বিভিন্ন পদক্ষেপ সেই ৮০এর দশকেই নেওয়া হয়েছিলো তা না হলে এখন জনসংখ্যার পরিমান কত হতো তা অচিন্ত্যনীয়। একই সাথে মুসলিম দেশসমূহের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শ্রম বাজার স্ফীত হচ্ছিলো সেটাকে সংকুচিত করার নানা কূটকৌশল এখন দৃশ্যমান। একই সাথে আঞ্চলিক উন্নয়নের কাঠামো বির্নিমাণের শহীদ জিয়ার স্বপ্ন সার্ক এখন প্রতিষ্ঠিত হলেও নানা বিপরীমুখী স্রোতের কারনে সার্ক তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছুতে পারছে না। 
১৫। জনসংখ্যা বিস্ফোরন রোধ করা।
১৬। সকল বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা এবং মুসলিম দেশগুলির সাথে সম্পর্ক জোরদার করা।
এছাড়াও প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় এবং জাতিগত সহনশীলতার বিষয়টিও এসেছে শহীদ জিয়ার ১৯ দফাতেঃ
১৭। প্রশাসন এবং উন্নয়ন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকাররে শক্তিশালী করা।
১৮। দুর্নীতিমুক্ত ন্যায়নীতিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা।
১৯। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার পূর্ন সংরক্ষণ করা এবং জাতীয় ঐক্য এবং সংহতি সুদৃঢ় করা।  

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের আত্মসমর্পণ

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের আত্মসমর্পণ
বিএনপির কেন্দ্রীয় বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক,ঢাকা মহানগর বিএনপির অন্যতম যুগ্ন আহবায়ক জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ আজ বুধবার তার বিরুদ্ধে ৩০ টি মামলায় আত্মসমর্পণ করে নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন করেন।আদালত তার ৩০ টি মামলার মধ্যে ০৫ টি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন ও বাকি মামলাগুলো জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।

আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না-খালেদা জিয়া

আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না-খালেদা জিয়া

আমরা প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না। সুশাসন ও সামাজিক সুবিচার কায়েম করবো এছাড়া মিডিয়া ও বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সুযোগ করে দেব। বর্তমান সরকার দেশ ও গণবিরোধী যেসব ভূমিকা পালন করছে আমরা কখোনই সেগুলো অনুসরন করবো না। সোমবার বিকালে ঢাকার সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৪০ বছর পূর্তিতে “সমৃদ্ধি ও শান্তির বাংলাদেশ : রাষ্ট্রের করনীয়, রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব, উন্নয়ন কর্মীদের ভূমিকা ও জনগণের প্রাপ্তি” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, শিরিন সুলতানা, সেলিনা রহমান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাবেক এমপি ডাক্তার সালাউদ্দিন বাবু, ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন প্রমুখ।বেগম খালেদা জিয়া আরো বলেন  সংঘাত, হানাহানি, মতার মোহ বারবার জাতির স্বপ্নকে হত্যা করেছে। চোরাবালিতে আজ হারিয়েছে বাংলাদেশ ।বর্তমান সরকার যে সব দেশ ও জন বিরোধী কাজ করছে তাতে জনগণ তাদের প্রকৃত স্বাধীনতা হারিয়েছে। পনির ন্যয্য হিস্যা থেকে জাতি বঞ্চিত। সীমান্তে বেসামরিক নিরিহ বাংলাদেশীদের আজ হত্যা করা হচ্ছে। যার কোন বিচার কেউ পাচ্ছেনা। বেগম জিয়া প্রথমে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র মাঠে স্কুলের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহন করেন। এরপর তিনি “সমৃদ্ধি ও শান্তির বাংলাদেশ : রাষ্ট্রের করনীয় , রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব, উন্নয়ন কর্মীদের ভূমিকা ও জনগণের প্রাপ্তি” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ঢাকার সাভারে বেসরকারি সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী উৎসবের শেষ দিনে তার আগমনকে কেন্দ্র করে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে শুর“ করে অনুষ্ঠান স্থল পর্যন্ত রঙ্গীন ব্যানার ও ফেষ্টুনে সাজানো হয় । রাস্তার দুপাশে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারন মানুষ বেগম জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তি এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৪০ বছর পূর্তি উপলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ৪২টি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের  যৌথ উদ্যোগে সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র চত্বরে ৩ দিন ব্যাপী উন্নয়ন কর্মীদের মিলন মেলার সোমবার ছিল এর শেষ দিন।

ক্ষতবিক্ষত ৪ বছরের শিশুকে দেখে অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেছে : ফখরুল

ক্ষতবিক্ষত ৪ বছরের শিশুকে দেখে অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেছে : ফখরুল
অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে আধিপত্যের প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার রাষ্ট্রের সমস্ত স্তম্ভ ধ্বংস করেছে। এই সরকার এই দেশটাকে, এই রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ বাসের অনুপযোগী করে গড়ে তুলেছে। রাষ্ট্রের সমস্ত যে স্তম্ভ, যে পিলার, সেই পিলারগুলোকে তারা শেষ করে ফেলেছে। কথাটা আমার একার না। কালকেই (শনিবার) মাননীয় প্রধান বিচারপতি বলেছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করছে, যেটাকে বলা হয়- কে কার থেকে বড় সেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। নিজের অভিযোগের সমর্থনে এই বক্তব্য হাজির করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে, পরিকল্পিতভাবে এই অনির্বাচিত অবৈধ সরকার এই কাজটি করছে, বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের পরিণত করবার তারা চক্রান্ত করছে। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চের ‘বশির উদ্দিন মিলনায়তনে’ খেলাফত মজলিশের ৯ম কেন্দ্রীয় সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। : মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি নিরপে সরকারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার না হলে কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসি গঠনের বিষয়ে যে আলোচনা শুরু করেছেন এর মাধ্যমে বিষয়গুলোর সুষ্ঠু সমাধান হবে বলেও আমরা প্রত্যাশা করি। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপে নির্বাচন ছাড়া সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিরসনের পথ নেই। বিএনপি বিশ্বাস করে, একটি সত্যিকারের নির্বাচনের মাধমেই মতা হস্তান্তর করা উচিত। সেজন্য বিএনপি নিরপে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় ইসি গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন, নিরেপ, সৎ, সাহসী ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারবেন। কারণ নির্বাচনকালীন নিরপে সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে বা সরকার নিরপে না হলে নির্বাচন কমিশন নিরপে হতে পারে না। বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকের পত্রিকায় দেখলাম আশকোনায় জঙ্গি হামলায় চার বছরের শিশু ত বিত হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। তা দেখে আমার অন্তরআত্মা কেঁপে উঠেছে। একটা চার বছরের শিশু গ্রেনেড দ্বারা ত বিত হয়ে হাসপাতালের বেডে পড়ে আছে। কেন জঙ্গি আক্রমণ, তার মা জঙ্গি, বাবা জঙ্গি, জানি না সত্য কি। এক নির্মম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। : এই সরকারের হাতে কোনো মানুষ নিরাপদ নয় জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকারের আমলে সবখানে নৈরাজ্য চলছে। হিন্দুদের মন্দির ভেঙে দিচ্ছে, বৌদ্ধদের উপাসনালয় ভেঙে দিচ্ছে। সাঁওতালদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সারা বিশ্বেই মুসলমানদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সারাবিশ্বেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তারা এক জোট হয়ে গেছে। শান্তির ধর্ম ইসলাম ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে মুসলমানরা বিশৃঙ্খলা চায় না, তারা শান্তি চায়। আমরা শান্তির প,ে বিশ্বশান্তির প।ে মিয়ানমারে মুসলিম হত্যাযজ্ঞ চলছে কিন্তু জাতিসংঘ, ওআইসি কোনো কথা বলছে না। : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বেগবান করে অর্থবহ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সকলের প্রতি আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব। বর্তমানে দেশের রাজনীতি গভীর সংকটে রয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু রাজনীতি নয়, দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্নও বড় রকমের সংকটের মুখে পড়েছে। অনৈতিক সরকার সুচিন্তিতভাবে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য এই কাজ করছে। মতাকে কুগিত করার জন্য কূটকৌশলের মাধ্যমে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। এদেশে এখন আর কোনো আইনের শাসন এবং সত্য ও ন্যায়ের কোনো স্থান নেই। রাষ্ট্রে সব স্তম্ভ নিঃশেষ করে চলেছে। : বিরোধী দলকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই সারাদেশে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়াকে অপকৌশল হিসেবে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। : সরকারের নিরপে নির্বাচন দেয়ার ইচ্ছা নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, তারা (সরকার) নিরপে নির্বাচন দেবে না। কারণ তারা জানে, নিরপে নির্বাচন হলে মতায় যেতে পারবে না। সেজন্য তারা গায়ের জোরে মতায় টিকে থাকতে চায়। আমাদেরকে এটি রুখে দিতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। এই আন্দোলনে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। অনেকের ফাঁসি হয়েছে, নেতা কর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে সারা দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে এই অনৈতিক সরকার। এ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সমাধানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। : খেলাফত মজলিশের আমীর অধ্য মাওলানা মুহম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমীর অধ্য মাসউদ খান, মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান পেশয়ারী, কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাশেমী, এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় পার্টি (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইদ আহমেদ, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান প্রমুখ। - See more at: http://www.dailydinkal.net/2016/12/26/31133.php#sthash.HRbNKFjV.dpuf