ওবায়দুলের বক্তব্য গণতন্ত্রের জন্য হুমকি : রিজভী আহমেদ

আওয়ামীলীগের নৈরাজ্য



ডিসিএফ রিপোর্টঃ পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে গণতন্ত্রের জন্য বিরাট হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য দেশে আওয়ামী লীগের হুমকি সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। আওয়ামী লীগ দুর্নীতি করে, আর সে কারণেই গণমানুষের কণ্ঠরোধের হুমকি দেয়। কোনো সৎ গণতান্ত্রিক সরকার  কোনো সমালোচনাতেই হুমকির আশ্রয় নেয় না। অন্তরে সততার দ্বীপশিখা প্রজ্বলিত থাকলে কোনো সমালোচনাতেই বিচলিত হওয়ার কথা নয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। : রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, পদ্মা  সেতু নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছেÑএ ব্যাপারে বেগম খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার তথ্য প্রমাণ দিতে হবে। তিনি তথ্য প্রমাণ দিতে না পারলে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। নতুবা সরকার বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্য দেশে আওয়ামী লীগের হুমকি সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ। দেশে দেশে বর্বর অগণতান্ত্রিক, জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন স্বৈরাচারী সরকারই গণতন্ত্রকে দুমড়ে-মুচড়ে মানুষের কথা বলা বন্ধ করতেই এ ধরনের হুমকি প্রদর্শন করে। তারা দুর্নীতি করে বলেই মানুষের কথা বলা বন্ধ করার জন্য হুমকি দেয়। আতঙ্ক থেকেই তাদের মধ্যে হুমকি প্রবণতা দেখা দেয়। ডালের মধ্যে কালো পদার্থ আছে বলেই ক্রুদ্ধ হয়ে তখন হুমকি দিতে হয়। এটাই নিষ্ঠুর স্বৈরাচারদের আচরণ। এরা মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী দলের কন্ঠরোধ এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য গণতন্ত্রের জন্য বিরাট হুমকি। তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, ২০১১ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করলো কেন বিশ্বব্যাংক। পদ্মা সেতুর কাজ পেতে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক সার্টিফিকেট দিয়ে মন্ত্রিত্ব কেড়ে নিয়েছিলেন কেন? সচিবসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল কেন? যেহেতু দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো আপনাদের একটি সাফসূত্র করার একটি ধোপাখানা আছে, সুতরাং আপনারা তো নিজেদের বড় দুর্নীতিবাজদের ধোপাখানার ওয়াশিং মেশিনে পরিষ্কার করে অব্যাহতি দেন। আর বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদক দিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা মামলা দায়ের করে তা টিকিয়ে রাখেন। কারণ মামলা করার, অভিযোগ দায়ের করার এবং গ্রেফতার করার সংস্থাগুলো সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগের পকেটে। সুতরাং উক্ত সংস্থাগুলো নিরপেক্ষতাহীন একটি আজ্ঞাবাহী প্রতিষ্ঠান। এজন্যই সরকারদলীয় নেতারা তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনায় অসন্তুষ্ট হয়ে মামলা দায়ের করে এবং মামলার হুমকি দেয়। তবে তাদের মনে রাখা দরকার, তাদের হুমকি, অন্যায়-অনাচার কোন কিছুই হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো মিলিয়ে যাচ্ছে না। : প্রতিটি অপকর্মেরই হিসাব রেজিস্ট্রি থাকছে বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, দেশবাসীকে এগুলোর হিসাব দিতেই হবে। দেশবাসী জানে যে, শেয়ার বাজারের হাজার হাজার কোটি টাকা কারা হজম করেছে, ব্যাংক-বীমা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কারা লুট করেছে, বড় বড় প্রকল্পের লুটের টাকা কোথায় পাচার হচ্ছে। জনগণের টাকা জালিয়াতি করে কল্পনাতীত গুন্ডামির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা যাবে না, জনগণের টাকা জনগণকে ফেরত দিতেই হবে একদিন। : বিএনপির এই নেতা বলেন,
কোমলমতি শিশুদের বিনামূল্যে বই বিতরণের নামে প্রতারণা চলছে। শিক্ষামন্ত্রী ঘটা করে বই বিতরণের উৎসব করলেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টাকা ছাড়া বই পাচ্ছে না শিশুরা, এমন অভিযোগ পত্র-পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদেরকে একটি মাত্র বই সরবরাহ করে উৎসব করা হচ্ছে, বলা হচ্ছে বই উৎসব।  উৎসবের নামে কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে বই বিতরণে প্রতারণা ও তামাশা বন্ধ করার জন্য আমি বিএনপির পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি। : ৫ জানুয়ারি দলীয় কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপির প থেকে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলে ঘোষিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিএনপি প্রত্যাশা করে সরকার ও প্রশাসনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলে ঘোষিত সমাবেশের অনুমতি পেয়েছেন কি নাÑ এই প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, অনুমতির বিষয়ে ডিএমপি কখনো ১২ ঘন্টা আবার কখনো ২৪ ঘন্টার কথা বলছেন। এটাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যাতে আমরা বড় সমাবেশ করতে না পারি। তাই অনুমতি নিয়ে এমন করা হচ্ছে। তবে সরকারকে আমি বলতে চাই, ভয় পাবেন না। আমাদের সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ। কারণ নিজেদের সমাবেশে কেউ বিশৃঙ্খলা করে না। নির্বাচিত মেয়রদের বরখাস্তের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, নির্বাচিত মেয়রদের বরখাস্ত করাই হচ্ছে হলো ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র রার বিজয় দিবসের নমুনা। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক  আব্দুস সালাম আজাদ, হারুন অর রশিদ, সহদফতর সম্পাদক  তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট