ক্ষতবিক্ষত ৪ বছরের শিশুকে দেখে অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেছে : ফখরুল

অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে আধিপত্যের প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার রাষ্ট্রের সমস্ত স্তম্ভ ধ্বংস করেছে। এই সরকার এই দেশটাকে, এই রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ বাসের অনুপযোগী করে গড়ে তুলেছে। রাষ্ট্রের সমস্ত যে স্তম্ভ, যে পিলার, সেই পিলারগুলোকে তারা শেষ করে ফেলেছে। কথাটা আমার একার না। কালকেই (শনিবার) মাননীয় প্রধান বিচারপতি বলেছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করছে, যেটাকে বলা হয়- কে কার থেকে বড় সেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। নিজের অভিযোগের সমর্থনে এই বক্তব্য হাজির করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে, পরিকল্পিতভাবে এই অনির্বাচিত অবৈধ সরকার এই কাজটি করছে, বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের পরিণত করবার তারা চক্রান্ত করছে। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চের ‘বশির উদ্দিন মিলনায়তনে’ খেলাফত মজলিশের ৯ম কেন্দ্রীয় সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। : মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি নিরপে সরকারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার না হলে কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসি গঠনের বিষয়ে যে আলোচনা শুরু করেছেন এর মাধ্যমে বিষয়গুলোর সুষ্ঠু সমাধান হবে বলেও আমরা প্রত্যাশা করি। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপে নির্বাচন ছাড়া সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিরসনের পথ নেই। বিএনপি বিশ্বাস করে, একটি সত্যিকারের নির্বাচনের মাধমেই মতা হস্তান্তর করা উচিত। সেজন্য বিএনপি নিরপে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় ইসি গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন, নিরেপ, সৎ, সাহসী ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারবেন। কারণ নির্বাচনকালীন নিরপে সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে বা সরকার নিরপে না হলে নির্বাচন কমিশন নিরপে হতে পারে না। বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকের পত্রিকায় দেখলাম আশকোনায় জঙ্গি হামলায় চার বছরের শিশু ত বিত হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। তা দেখে আমার অন্তরআত্মা কেঁপে উঠেছে। একটা চার বছরের শিশু গ্রেনেড দ্বারা ত বিত হয়ে হাসপাতালের বেডে পড়ে আছে। কেন জঙ্গি আক্রমণ, তার মা জঙ্গি, বাবা জঙ্গি, জানি না সত্য কি। এক নির্মম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। : এই সরকারের হাতে কোনো মানুষ নিরাপদ নয় জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকারের আমলে সবখানে নৈরাজ্য চলছে। হিন্দুদের মন্দির ভেঙে দিচ্ছে, বৌদ্ধদের উপাসনালয় ভেঙে দিচ্ছে। সাঁওতালদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সারা বিশ্বেই মুসলমানদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সারাবিশ্বেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তারা এক জোট হয়ে গেছে। শান্তির ধর্ম ইসলাম ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে মুসলমানরা বিশৃঙ্খলা চায় না, তারা শান্তি চায়। আমরা শান্তির প,ে বিশ্বশান্তির প।ে মিয়ানমারে মুসলিম হত্যাযজ্ঞ চলছে কিন্তু জাতিসংঘ, ওআইসি কোনো কথা বলছে না। : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বেগবান করে অর্থবহ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সকলের প্রতি আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব। বর্তমানে দেশের রাজনীতি গভীর সংকটে রয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু রাজনীতি নয়, দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্নও বড় রকমের সংকটের মুখে পড়েছে। অনৈতিক সরকার সুচিন্তিতভাবে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য এই কাজ করছে। মতাকে কুগিত করার জন্য কূটকৌশলের মাধ্যমে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। এদেশে এখন আর কোনো আইনের শাসন এবং সত্য ও ন্যায়ের কোনো স্থান নেই। রাষ্ট্রে সব স্তম্ভ নিঃশেষ করে চলেছে। : বিরোধী দলকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই সারাদেশে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়াকে অপকৌশল হিসেবে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। : সরকারের নিরপে নির্বাচন দেয়ার ইচ্ছা নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, তারা (সরকার) নিরপে নির্বাচন দেবে না। কারণ তারা জানে, নিরপে নির্বাচন হলে মতায় যেতে পারবে না। সেজন্য তারা গায়ের জোরে মতায় টিকে থাকতে চায়। আমাদেরকে এটি রুখে দিতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। এই আন্দোলনে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। অনেকের ফাঁসি হয়েছে, নেতা কর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে সারা দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে এই অনৈতিক সরকার। এ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সমাধানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। : খেলাফত মজলিশের আমীর অধ্য মাওলানা মুহম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমীর অধ্য মাসউদ খান, মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান পেশয়ারী, কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাশেমী, এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় পার্টি (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইদ আহমেদ, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান প্রমুখ। - See more at: http://www.dailydinkal.net/2016/12/26/31133.php#sthash.HRbNKFjV.dpuf

শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট